বেনামি পলিসি নিষিদ্ধ, ৫ বছরের কম মেয়াদি পলিসি উচ্চ ঝুঁকির; বীমা খাতে নতুন নির্দেশনা
নিজস্ব প্রতিবেদক, ডিএসই নিউজ ২৪ | ২১ অক্টোবর ২০২৬
বীমা খাতকে মানিলন্ডারিং, সন্ত্রাসে অর্থায়ন এবং গণবিধ্বংসী অস্ত্রের বিস্তারে অর্থায়নের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। এতে বেনামে পলিসি খোলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কোনো গ্রাহক এক দিনে ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি নগদ লেনদেন করলে তা বিএফআইইউকে জানানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
গত ১৯ অক্টোবর ‘সার্কুলার নং-৩৪’ জারি করে দেশের সব লাইফ ও নন-লাইফ বীমা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠিয়েছে বিএফআইইউ। মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এবং সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯-এর ক্ষমতাবলে জারি করা এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে। এর ফলে এ-সংক্রান্ত আগের সব সার্কুলার ও নির্দেশনা প্রতিস্থাপিত হয়েছে।
বেনামি পলিসি ও নিষিদ্ধ ব্যক্তি-সত্তা
সার্কুলারে বলা হয়েছে, কোনো অবস্থাতেই বেনামে বা ছদ্মনামে বীমা পলিসি খোলা বা পরিচালনা করা যাবে না। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলুশনভুক্ত এবং বাংলাদেশ সরকার নিষিদ্ধ করেছে, এমন ব্যক্তি বা সত্তার নামে কোনো পলিসি ইস্যু করা যাবে না। এ ধরনের কারও লেনদেন শনাক্ত হলে তা সঙ্গে সঙ্গে স্থগিত করে পরবর্তী কর্মদিবসের মধ্যে বিএফআইইউকে জানাতে হবে।
নগদ লেনদেন ও সন্দেহজনক লেনদেনের রিপোর্ট
নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকিং বা এমএফএস চ্যানেল ছাড়া কোনো গ্রাহকের সঙ্গে এক দিনে ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি নগদ লেনদেন হলে তা পরবর্তী মাসের ৭ কর্মদিবসের মধ্যে ‘নগদ লেনদেন রিপোর্ট’ (সিটিআর) হিসেবে goAML পোর্টালের মাধ্যমে বিএফআইইউতে জমা দিতে হবে। এ ছাড়া কোনো অস্বাভাবিক বা সন্দেহজনক লেনদেন নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্ট (এসটিআর/এসএআর) পাঠাতে হবে।
৫ বছরের কম মেয়াদি পলিসি ‘উচ্চ ঝুঁকির’
গ্রাহক নির্বাচনে বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘রিস্ক বেসড অ্যাপ্রোচ’ অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। সার্কুলারে স্পষ্ট করা হয়েছে, যে পলিসির মেয়াদ ৫ বছর বা তার কম, সেটি ‘উচ্চ ঝুঁকিসম্পন্ন’ হিসেবে বিবেচিত হবে। উচ্চ ঝুঁকির গ্রাহকের কেওয়াইসি প্রতি এক বছর পরপর এবং নিম্ন ঝুঁকির গ্রাহকের কেওয়াইসি প্রতি পাঁচ বছর পরপর হালনাগাদ করতে হবে।
প্রভাবশালীদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা
বিদেশি পলিটিক্যালি এক্সপোজড পার্সন (পিইপি), দেশীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি (আইপি), আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তা এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নামে পলিসি খোলার ক্ষেত্রে অধিকতর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা (ইডিডি) নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের প্রধান মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ পরিপালন কর্মকর্তার (ক্যামেলকো) পূর্বানুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক।
পরিপালন কাঠামো ও নিয়োগ যাচাই
প্রতিটি বীমা প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ে ‘কেন্দ্রীয় পরিপালন ইউনিট’ (সিসিইউ) গঠন করতে হবে। এর নেতৃত্বে থাকবেন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পরবর্তী সর্বোচ্চ দুই ধাপের মধ্যবর্তী পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা। শাখা ও ইউনিট পর্যায়ে ন্যূনতম ৩ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্মকর্তাকে ‘বামেলকো’ (BAMLCO) হিসেবে দায়িত্ব দিতে হবে।
নতুন কর্মকর্তা-কর্মচারী, বীমা এজেন্ট ও অফশোর মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের আগে তাঁদের অতীত কর্মসংস্থান, ঋণ ইতিহাস এবং অপরাধমূলক বা দেউলিয়া হওয়ার রেকর্ড আছে কি না, তা যাচাই করতে হবে।
নথি সংরক্ষণ
সার্কুলার অনুযায়ী, পলিসি সমাপ্ত বা দাবি নিষ্পত্তির পর গ্রাহকের সব নথিপত্র ও তথ্য অন্তত ৫ বছর সংরক্ষণ করতে হবে।